‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার করবে বিএনপি সরকার

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৬ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৫৫

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

জুলাই জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাইবাছাই করে বেশ কয়েকটি সংযোজন ও বিয়োজন করবে।

সরকার গঠনের পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ আলোচনা হয়। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও বৈঠকে সংবিধান সংস্কার, জ্বালানিসহ চলমান সংকট সমাধানে গুরুত্বারোপ করা হয়। নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক সূত্র জানায়, জুলাই সনদ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সেটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। কিন্তু কিছু নোট অব ডিসেন্ট ছিল বিএনপির। তার অর্থ এইটা না যে, এই নোট অব ডিসেন্টও বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সূত্র আরও জানায়, দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতি জোরদার করতে দীর্ঘ ১০ বছর পর জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করতে চান নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি স্বল্পসময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বৈঠকে গত ৪৭ দিনের সরকারের কর্মসূচি, দেশের চলমান পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যু, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ও সারা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে মত প্রদান করেন। কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতেও এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক কার্ডসহ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে মতামত দেন।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনের কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে বিএনপি সরকারের কার্যক্রম ঠিকঠাক মতো চলে। সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে। দল ও সংগঠনের পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার মতো সময় নেই বলে বেশির ভাগ সদস্য মতামত দেন।

সূত্র আরও জানায়, সংরক্ষিত আসনে সংসদ-সদস্যদের বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিলের পর এ বিষয়টি আবার আলোচনা হবে। স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক নেতা বলেন, সরকার ও রাজনীতিকে পৃথকভাবে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বৈঠকে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকারের এই অল্প সময়ের কর্মকাণ্ডকে ভালো হিসেবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া অনেক কিছু বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কাজের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিদ্যমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় উত্তরণের পথ খোঁজা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব কমিটমেন্ট বিএনপি করেছে, তার সবই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে যেগুলোতে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ও গুম কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে গুম কমিশন বাতিল করা হবে। আদতে বিষয়টি সেরকম নয়। আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে এতে কিছু সংশোধনী আনা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই অটো (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) পাস হয়ে যাবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করে ভবিষ্যতে কীভাবে দলকে দ্রুত কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রায় তিন মাস পর শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়াল), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়াল), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই প্রথম বৈঠক। সবশেষ নির্বাচনের আগে ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: