ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলার ওপর এবং তার আশপাশের আকাশসীমাকে 'সম্পূর্ণভাবে বন্ধ' বলে ধরে নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে 'ঔপনিবেশিক হুমকি' বলে আখ্যায়িত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে লেখেন, ‘সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি আহ্বান থাকবে—অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশপাশের আকাশপথকে পুরোপুরিই বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।‘
এর জবাবে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি তাদের আকাশসীমার সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি ঔপনিবেশিক হুমকি এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে এটি ‘একটি প্রচণ্ড উদ্ভট, অবৈধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসন’।
আল-জাজিরার ল্যাটিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরে মাদুরোর সরকারের ওপর ‘পরিকল্পিতভাবে চাপ বাড়াচ্ছে’।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদক চোরাচালান দমনের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আসল উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ক্ষেত্র তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে এবং মাদক চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা এই হামলাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া, গত আগস্টে মাদুরোকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করেছিল। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো-সংশ্লিষ্ট 'কার্টেল দে লস সোলস'কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তিনি স্থলপথে ভেনেজুয়েলার মাদক চোরাচালানকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক জাতীয় ভাষণে মাদুরো বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ভয় পাবে না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপের চেষ্টা প্রতিহত করবে।
ভেনেজুয়েলার সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত চার্লস শাপিরো মনে করেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াবে এবং তার মূল উদ্দেশ্য মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের নীতির ফলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশটি বহু বছর ধরেই দারিদ্র্য এবং ব্যাপক বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়ছে।
উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই গত শুক্রবার 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' এক প্রতিবেদনে জানায় যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুই নেতার মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদি এই বৈঠক হয়, তবে তা হবে মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম সাক্ষাৎ।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: