ফাইল ছবি
বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মদ আদ দুরার স্মৃতির মুখোমুখি হচ্ছে মিসরের নতুন প্রজন্ম। ২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার ইতিহাস নিয়ে তৈরি হাইস্কুল পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছে আদ দুরার সেই কালজয়ী ছবি।
মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যক্রমের 'দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা ২০০০' শীর্ষক পাঠে স্থান পাওয়া এই ছবির নিচে সরাসরি লেখা রয়েছে— "মুহাম্মদ আদ দুরাকে গুলি করার মুহূর্ত"। সংঘাত ও শান্তি প্রচেষ্টার ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হিসেবে ছবিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের এক অনন্য মানবীয় দলিল হয়ে উঠেছে। ২০০০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গাজার রাস্তায় ইসরাইল বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণের মুখে কংক্রিটের ব্লকের পেছনে বাবার কোলে কুঁকড়ে থাকা শিশু আদ দুরাকে নির্মমভাবে ঝাঁজরা করে দিয়েছিল দখলদার সেনারা। সেই নির্মম দৃশ্যের ফুটেজ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পাঠ্যবইয়ে ছেলের ছবি ঠাঁই পাওয়ায় আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আদ দুরার বাবা জামাল আদ দুরা। তিনি বলেন, এর গুরুত্ব কেবল পাঠ্যবইয়ে মুহাম্মদের নাম বা ছবি চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে যে ইতিহাসের পাতায় তারা যেসব সংঘাত ও তারিখের কথা পড়ে, তার পেছনে ছিল সাধারণ মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুরা, যারা কেবল ভয় আর নৃশংসতার মধ্য দিয়েই বাঁচেনি, চরম মূল্যও দিয়ে গেছে।
আদ দুরার বাবা আশা প্রকাশ করেন, তার সন্তানের এই ট্র্যাজিক গল্প ফিলিস্তিন সংকটের রক্তভেজা রূপ বোঝার এক বড় দুয়ার হয়ে উঠবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস ও রাজনীতির রাজপথ, যুদ্ধ বা চুক্তিকে কেবল শুষ্ক তারিখ হিসেবে না দেখে, রক্তমাংসের ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে—যেখানে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে অসহায় শিশুদের।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর