
ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজায় এক হাজার ৪৪২ জন হাফেজে কোরআনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গাজা শহরের ইয়ারমুক স্টেডিয়ামে ৩১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। খবর আল জাজিরা মুবাশ্বির।
গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা দারুল কোরআন আল-করিম ওয়াস সুন্নাহ। ‘সাফওয়াতুল হুফফাজ’ শিরোনামের দ্বিতীয় পর্বে কোরআনে হাফেজরা এক বৈঠকে পুরো কোরআন মুখস্থ শোনান।
এ আয়োজন প্রসঙ্গে দারুল কোরআন আল-করিম ওয়াস সুন্নাহর পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ড. আবদুর রহমান আল-জামাল বলেন, সবার অন্তরে পবিত্র কোরআনের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে আমাদের এই উদ্যোগ। যারা এক বৈঠকে পুরো কোরআন মুখস্থ শোনাতে সক্ষম হয়েছে, আমরা তাদের সম্মাননা দিয়েছি।
ড. আবদুর রহমান আরো বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, আমাদের এই আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন অনেকের মধ্যেই এক বৈঠকে কোরআন শোনানোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমাদের এই উদ্যোগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি, শিশুরাসহ সব বয়সের এবং বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছে। আমরা মনে করি, দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে কোরআন হেফজ করার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই প্রতিবন্ধক হতে পারে না।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট ‘সাফওয়াতুল হুফফাজ’-এর প্রথম পর্ব আয়োজিত হয়েছিল। সে পর্বেও শিক্ষক, চিকিৎসক, সেনা কর্মকর্তাসহ নানা পেশার নারী ও পুরুষরা অংশ নিয়েছিল। তখন এক হাজার ৪৭১ জন হাফেজ পুরো কোরআন এক বৈঠকে শোনাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাতে আট বছর বয়সী শিশু যেমন ছিল, তেমনি ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধরাও ছিলেন।
দারুল কোরআন আল-করিম ওয়াস সুন্নাহ গত বছর প্রথমবারের মতো এ ধরনের আয়োজন করে। সে আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন ৫৮১ হাফেজ।
দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। সব বয়সী মানুষের মধ্যে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা প্রসারই ছিল তার লক্ষ্য। কাতারসহ বেশ কিছু দেশ এ প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে থাকে।
ভিডিও লিঙ্ক:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: