যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় খুললো আল-আকসা, শুক্রবারের নামাজে লাখও মুসল্লির অংশগ্রহণ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৭

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় খুলে দেয়ার এক দিন পর পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে এক লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

ইসলামি কর্তৃপক্ষের বরাতে জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবারের নামাজে এক লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নেন।

জেরুজালেমের পুরোনো শহর তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থানের আবাসস্থল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বন্ধ ছিল।

এই পুরোনো শহরের ভেতরেই রয়েছে মুসলমানদের জন্য আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের জন্য ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং খ্রিস্টানদের জন্য চার্চ অব দ্য হোলি সেপালখার, যেগুলো সবই পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা ইসরাইল দখল ও একীভূত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার এসব ধর্মীয় স্থান আবার মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়।

চলতি বছর পবিত্র রমজান মাসেও মুসল্লিরা আল-আকসায় প্রবেশ করতে পারেননি।

জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক ওয়াক্ফ জানায়, শুক্রবারের জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। এএফপিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে পুরো প্রাঙ্গণকে মুসল্লিতে পরিপূর্ণ দেখা গেছে।

৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাঈদেহ বলেন, ‘আশা করি আবার আল-আকসা বন্ধ করা হবে না এবং জেরুজালেম কিংবা পশ্চিম তীর—সব জায়গা থেকে মানুষ এই পবিত্র স্থানে আসতে পারবে।’

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এখনো বয়স ও অনুমতির কোটাভিত্তিক কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী শরিফ মোহাম্মদ বলেন, ‘জুমার নামাজ আমাদের জন্য ফরজ, কিন্তু আল-আকসায় তা আদায় করা একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি।’ তিনি এটিকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।

৫৫ বছর বয়সী আহমাদ আম্মার বলেন, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়।’

জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইরানের সাথে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থাজনিত অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।

তবে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে এসব বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে সঙ্ঘাত অব্যাহত রয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: