পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রায় তলানিতে বাংলাদেশ; শীর্ষে সিঙ্গাপুর

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৩ মে ২০২৬ ২৩:৩২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

২০২৬ সালের বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর। এই তালিকায় তলানির দিকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম।

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন, যা বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ। আর বাংলাদেশিরা ভ্রমণ করতে পারেন মাত্র ৩৬টি দেশে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর প্রতিটি দেশের নাগরিকরা ১৮৭টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুবিধা পান। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মানুষরা ১৮৫টি গন্তব্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, উন্নত অর্থনীতি ও শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সম্মিলিতভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রায় ১৮৩টি দেশে, যা মালয়েশিয়া ও বৃটেনের সমমানের। এর চেয়েও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র।

এই তালিকায় বাংলাদেশ এখনও নিচের দিকেই অবস্থান করছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সীমিত সংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্ট শক্তি নির্ভর করে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অভিবাসন নীতির ওপর। বাংলাদেশে উচ্চ জনসংখ্যা, অভিবাসনের প্রবণতা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিসা অপব্যবহারের আশঙ্কা বিদেশি দেশগুলোকে কঠোর নীতি নিতে প্রভাবিত করে।

তালিকার নিচের দিকে থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা ৫০টিরও কম দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। যেমন সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ও কঙ্গো। এসব দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় বাধা সৃষ্টি করে। বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্টের এই বৈষম্য কেবল ভ্রমণ সুবিধার পার্থক্য নয়, বরং বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধার একটি প্রতিচ্ছবি। একজন নাগরিক কোথায় জন্মেছেন, সেটিই নির্ধারণ করে তিনি কত সহজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতে পারবেন।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: