ফাইল ছবি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) হাতে তুলে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরের আদালত। গতকাল সোমবার রাতে এনআইএ তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে গেছে। সেখানে এনআইএর বিশেষ আদালতে তোলা হবে এঁদের।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে এনআইএ ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
দিল্লি এনআইএর বিশেষ আদালতে তাঁদের তোলা হবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এনআইএর গোয়েন্দারা তদন্তের স্বার্থে এ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। যদিও হাদি হত্যা মামলায় এই দুই আসামিকে পালিয়ে আসতে সাহায্য করার অপরাধে গ্রেপ্তার ফিলিপ সাংমাকে আদালতের নির্দেশে রাখা হয়েছে বিচার বিভাগীয় কারাগারে।
৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে আনা হলে ২২ মার্চ আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
সেদিন আদালতে নেওয়ার পথে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেছিলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে নাম আসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের। যে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: