মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ মার্চ ২০২৬ ২১:২০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালা দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

রোববার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ইরানে সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। এ ধরনের আচরণ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং চলমান বিরোধসমূহের ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও আমরা অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে মনে করি। এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই কেবল বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর করবে।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বৃহত্তর বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার জোর দাবি জানাই- কারণ টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ সেটিই।’ তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ঐক্য, প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি।’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: