04/04/2025 আমেরিকা থেকে ভারতীয়দের হাত-পা বেঁধে ফেরত : মোদির ব্যর্থ কুটনীতি
মুনা নিউজ ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:২০
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ১০৪ জন ভারতীয় নাগরিককে হাতকড়া ও শেকল পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। টেক্সাস থেকে সামরিক বিমানে করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ভারতীয় সংসদে মোদীর ব্যর্থ কুটনীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলো একে ‘অমানবিক’ ও ‘অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইউএস বর্ডার পেট্রোল এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে, সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৭-এর পেছনের দরজা খোলা, প্রথমে একটি বিশাল কার্গো প্রবেশ করানো হয়, তারপর শিকলে বাঁধা ভারতীয় অভিবাসীদের তাতে উঠানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। সাধারণত এভাবে দাগি আসামি বা যুদ্ধবন্দিদের পরিবহন করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সামরিক বিমানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দূরত্বে অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নজির। সীমান্তরক্ষী সংস্থার প্রধান মাইকেল ডব্লিউ ব্যাংকস বলেন, “অভিবাসন আইন কার্যকরে আমরা বদ্ধপরিকর। যদি কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো এসব অভিবাসীর বেশিরভাগই দালালদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা লাখ লাখ রুপি খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, কিন্তু বৈধ পথে না নিয়ে দালালরা তাদের অবৈধ পথে পাঠিয়েছিল।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সংসদে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী দলীয় নেতারা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা ‘মানুষ, অপরাধী নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, “অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে ফেরত পাঠানোর অধিকার তাদের আছে, ভারত সরকারও তাদের গ্রহণ করতে বাধ্য। তবে সামরিক বিমানে হাত-পা বেঁধে পাঠানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অমানবিক।”
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংসদে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও সরকার এখনো এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরু করেনি। তবে মোদি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা করছে।
সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ইতোমধ্যে ‘ওভারসিজ মোবিলিটি (সুবিধা ও কল্যাণ) বিল, ২০২৪’ নামে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করেছে, যা বিদেশে অভিবাসীদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর আরও কঠোরভাবে চাপিয়ে দেবে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.