04/04/2025 জুলাই-আগস্টের গণহত্যা: আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরের সঙ্গে ড. ইউনূসের আলোচনা
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৫:৫৭
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। বৈঠকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠকটি হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, বৈঠকে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মামলা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও গত জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেসব ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করার উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবিত তিন দফার প্রশংসা করেছেন আইসিসি প্রধান কৌঁসুলি।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্ররা যে আন্দোলন শুরু করে তা তীব্রতা পায় জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদসহ সারাদেশে ছয়জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন সহিংস আকার ধারণ করে।
এরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই-আগস্টে নিহত এবং আহতদের তালিকা তৈরি করা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৭০৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরিবর্তন আনা হয়।
আগস্টের তৃতীয় সপ্তাতে শেখ হাসিনার সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীসহ ট্রাইব্যুনালের ১৩ জন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে।
তারসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা হলেন-মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কয়েকশ মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েক ডজন মানুষের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য এ ট্রাইব্যুনালে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.