যুক্তরাজ্যকে ভেঙে দিতে একটি যৌথ চুক্তি করেছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দল শিন ফেইন বলেছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দেশটিকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন না।
সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে আয়োজিত এক বৈঠকে তিন অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এতে স্বাক্ষর করেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি, ওয়েলসের প্লেইড কামরির নেতা রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও শিন ফেইনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিশেল ও’নিল। শিন ফেইনের প্রধান মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অঞ্চলগুলোর পার্লামেন্ট থাকলেও তারা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মিশেল ও’নিল বলেন, ‘আমরা এক বিশাল ও অবধারিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যুক্তরাজ্যের কোনো প্রধানমন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, চোখের সামনে ঘটে চলা এ স্রোত থামানো যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টার আমাদের জনগণের কল্যাণ করতে পারেনি এবং কখনোই পারবে না। আমাদের স্বাধিকারের অধিকার রয়েছে এবং সেই বার্তা আমরা সম্মিলিতভাবে ওয়েস্টমিনস্টারকে জানাতে চাই।’আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় শিন ফেইন সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে ও’নিল বলেন, ‘ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যই প্রমাণ করে যে বহুল আলোচিত এ ইস্যুতে এখন ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছে।’
গত মে মাসে ওয়েলসের নির্বাচনে প্লেইড কামরির বিজয়ের পর এবারই প্রথমবারের মতো তিনটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল নিজ নিজ অঞ্চলের ক্ষমতায় এসেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি অঞ্চলেরই স্বাধিকারের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিটি জাতি নিজস্ব উপায়ে ও সময়ে গ্রহণ করবে। স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিটি অঞ্চল আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেবে বলেও চুক্তিতে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
তবে নতুন এ জোটের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। স্কটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা রাসেল ফাইন্ডলে বলেন, যুক্তরাজ্যকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে জন সুইনির শিন ফেইনের সঙ্গে হাত মেলানোর দৃশ্য দেখে স্কটল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষই ক্ষুব্ধ হবে। টোরি ছায়া স্কটিশ সচিব হ্যারিয়েট ক্রস বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সাম্প্রতিক মন্তব্য জাতীয়তাবাদী নেতাদের হাতে যুক্তরাজ্য ভাঙার নতুন রসদ যুগিয়েছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবেই সবচেয়ে শক্তিশালী। সরকার কোনো ধরনের সাংবিধানিক বিতর্ক বা নতুন গণভোটে জড়ানোর বদলে মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।