প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেস ফোর্সের নতুন ইউনিফর্মের নকশা প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৭ সালের চলচ্চিত্র স্টারশিপ ট্রুপার্স থেকে এ পোশাকের নকশায় অনুপ্রেরণা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চলচ্চিত্রটিতে নাৎসি জার্মানির সামরিক পোশাক ও ফ্যাসিবাদী নান্দনিকতার ব্যবহার থাকায় নতুন ইউনিফর্মটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে নতুন ইউনিফর্মের একটি নকশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এতে গাঢ় রঙের টিউনিক, পিকড ক্যাপ ও হাঁটু পর্যন্ত উঁচু বুট দেখা যায়। ট্রাম্পের পোস্টে বলা হয়, র ইউনিফর্মের ‘শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা’ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মহাকাশক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী ‘গার্ডিয়ানদের’ জন্য পোশাকটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
তবে স্টারশিপ ট্রুপার্স চলচ্চিত্রটির পরিচালক পল ভারহোভেনের বক্তব্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটির ফ্যাসিবাদী আবহ ইচ্ছাকৃতভাবেই তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, যেখানে ফ্যাসিস্টরা নিজেদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে বুঝতে পারে না। চলচ্চিত্রটি মূলত আমেরিকান রাজনীতি নিয়ে তৈরি বলেও জানান তিনি।
নাৎসি জার্মানির দখলাধীন নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা ভারহোভেন চলচ্চিত্রটির নকশায় ফ্যাসিবাদী প্রচারণামূলক চলচ্চিত্রের প্রভাব ব্যবহার করেন। সামরিক কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করা নীল প্যাট্রিক হ্যারিসের পোশাকও নাৎসি জার্মানির এসএস বাহিনীর ইউনিফর্মের আদলে তৈরি করা হয়েছিল।
১৯৯৭ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক পর্যালোচনায় চলচ্চিত্রটির ‘স্পষ্ট নাৎসি ফ্যাশন’ এবং হ্যারিসের কালো শার্ট, ওভারকোট ও এসএস-ধাঁচের ক্যাপের উল্লেখ করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের পর্যালোচনায়ও চলচ্চিত্রটির নান্দনিকতা নাৎসি জার্মানি থেকে নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ট্রাম্প ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ষষ্ঠ শাখা হিসেবে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাহিনীটির ইউনিফর্ম প্রচলিত সামরিক পোশাকের আদলে তৈরি। এতে ছয়টি বোতামযুক্ত একটি টিউনিক রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ষষ্ঠ শাখাকে প্রতীকায়িত করে।
ট্রাম্প নতুন ইউনিফর্মের রঙকে ‘স্পেস গ্রে’, ‘মিডনাইট ব্ল্যাক’, ‘সিলভার গ্রে’ ও ‘স্যাটিন ব্ল্যাক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নতুন পোশাকের নকশা নিয়ে কেউ কেউ স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্রের ইম্পেরিয়াল কর্মকর্তাদের ইউনিফর্মের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। মেন্সওয়্যার লেখক ডেরেক গাই বলেন, মহাকাশভিত্তিক চলচ্চিত্রে কোনো চরিত্রকে খলনায়ক হিসেবে বোঝাতে পোশাক পরিকল্পনাকারীরা যে ধরনের নকশা ব্যবহার করেন, নতুন ইউনিফর্মটি অনেকটা তেমন।