08/04/2026 প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে পদত্যাগের হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
মুনা নিউজ ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি আর একবার পদত্যাগের হুমকি বা প্রস্তাব দিলে তা সরাসরি গৃহীত হবে।
সর্বোচ্চ নেতার এক বৈবাহিক আত্মীয়ের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ইরানের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও পেজেশকিয়ানের কার্যালয় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন এবং স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ-বাগের খারাযি (যার বোন মোজতবা খামেনির ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ) দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত ২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু সুপ্রিম লিডারের শেষ সংকেতের পর তিনি দমে গেছেন।
খারাযি সর্বোচ্চ নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তিনি (পেজেশকিয়ান) যদি আর একবার পদত্যাগের প্রস্তাব দেন, তবে আমি তা অনুমোদন করব। আমি নিচে ‘অনুমোদিত’ লিখে দেব এবং সেখানেই সব শেষ হবে।’ খারাযির দাবি, এই হুঁশিয়ারির পর পেজেশকিয়ান আর সাহস পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, পূর্বের কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তার সরকারকে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং উগ্রপন্থী রিভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলী দখল করে নিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক ডেপুটি মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় খারাযির এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘পরাজিত ও চরমপন্থীদের একটি অশুভ জোট জাতীয় ঐক্যকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ব্যালট বাক্সে পরাজিত হওয়ার দুই বছর পর এখনো তারা জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইছে। তারা দেশের শত্রুদের পুতুলে পরিণত হয়েছে।’
প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী- আসগর শাফিয়ান খারাযির মন্তব্যকে ‘কাল্পনিক গল্প’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, খারাযির সঙ্গে মোজতবা খামেনির কোনো বৈঠক বা যোগাযোগই নেই।
তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিয়ে ক্ষুব্ধ একটি মহল এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক কর্মী আহমদ জাইদাবাদি একে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ানোর অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।
খারাযি আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সর্বোচ্চ নেতা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদ থেকে মোহাম্মদ-বাগের জোলক্যাদরকে সরিয়ে তার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাইকে বসাতে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে কূটনৈতিক আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুমকি না দিতে সতর্ক করা হয়েছে এবং সমঝোতা আলোচনায় হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে পেজেশকিয়ান সরকার এবং উগ্রপন্থী শক্তিসমূহের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের নেপথ্যে রয়েছে গত ১৭ জুন স্বাক্ষর করা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক। চরমপন্থীদের দাবি, এই চুক্তি খামেনির নীতিমালার পরিপন্থী।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিকিউরিটি কাউন্সিলের ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্যের অনুমোদনের পরই সর্বোচ্চ নেতার সম্মতি নিয়ে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে এগিয়েছে তার সরকার।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.