07/27/2026 কাঠমান্ডুর উৎসবে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আমের প্রদর্শনী
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৫২
দেশের কৃষি খাতের সাফল্য তুলে ধরতে এবং নেপালের বাজারে কৃষি পণ্যের রফতানি বাড়াতে কাঠমান্ডুতে এক উৎসবে বাংলাদেশের বাহারি লেট-সিজন আম ও আম থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাঠমান্ডুর উৎসব কুঞ্জে বাংলাদেশ দূতাবাস ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এই উৎসবের আয়োজন করে। এতে কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবটিতে প্রায় ২৫০ জন অতিথি যোগ দেন। এতে সুস্বাদু তাজা আমের পাশাপাশি আম থেকে তৈরি নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও মিষ্টান্ন প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মো: গোলাম সারোয়ার। নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব রাষ্ট্রদূত গহেন্দ্র রাজভান্ডারী।
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: শফিকুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষিতে আম এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল আবহাওয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা আম উৎপাদনে সহায়ক। এ দেশে ক্ষীরসাপাত (হিমসাগর), হাড়িভাঙা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌড়মতি এবং বারির বিভিন্ন উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হয়।
রাষ্ট্রদূত দেশের লেট-সিজন আমের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের এই প্রচেষ্টার ফলেই বছরের দীর্ঘ সময় জুড়ে আম পাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে জুস, নেক্টার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি হচ্ছে।
সার্ক মহাসচিব গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আমের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে এ অঞ্চলের তাজা আম ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রফতানি এখনো সীমিত।
বাংলাদেশ দূতাবাসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি কৃষি খাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর আহবান জানান।South Asians & Diaspora
নেপালের কর্মকর্তা রাজভান্ডারী বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, এই আয়োজন বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণ এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
বাংলাদেশের উদ্ভাবনী ‘আম কূটনীতি’র প্রশংসা করে তিনি আধুনিক কূটনীতির জটিলতার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় করতে যৌথ যোগাযোগের ওপর জোর দেন।
প্রদর্শনীতে রাজশাহীর বিভিন্ন জাতের আম স্থান পায়। এর মধ্যে ছিল ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌড়মতি ও আশ্বিনা।
একইসাথে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রক্রিয়াজাত পণ্য যেমন—আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলি প্রদর্শন করে।
অতিথিদের আম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মিষ্টান্ন যেমন—কেক, আমের স্টিকি রাইস ও পুডিং পরিবেশন করা হয়। এর পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার।
বাংলাদেশী আম চাষি রফিকুল ইসলাম আম উৎপাদনে তার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে কিভাবে উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) মেনে আম চাষ করা হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেন।
উৎসবে আধুনিক হর্টিকালচার, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে আম চাষের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পর্যটন আকর্ষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
দূতাবাস জানায়, এই উৎসবের উদ্দেশ্য শুধু বাংলাদেশের কৃষি পণ্য প্রদর্শন করা নয়। এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুই দেশের আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করাও অন্যতম লক্ষ্য।
দূতাবাস আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের উদ্যোগ তাজা কৃষি পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রীর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সাহায্য করবে। একইসাথে বাংলাদেশ ও নেপালের অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব জোরদারে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দূতাবাস।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.