07/27/2026 জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ঘুমের রুটিন নিয়ে বিতর্কের জন্ম
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৩
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যাপক কর্মব্যস্ততা এবং বিশ্রামের অভাব দেশটিতে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন তিনি মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে অভ্যস্ত।
গত সোমবার ছিল জাপানের সরকারি ছুটির দিন ‘সমুদ্র দিবস’। তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ যখন সমুদ্রসৈকতে বা সার্ফিং করে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তখন জমে থাকা হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দিতে ও নীতিমালার নথিপত্র পড়তে ব্যস্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, অনেক দিন পর তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছেন। শুধু দাপ্তরিক কাজই নয়, ছুটির এই অবসরে তিনি নিজের ছিঁড়ে যাওয়া স্কার্ট সেলাই, জ্যাকেটের ঢিলা বোতাম শক্ত করা এবং অন্তর্বাস ইস্ত্রি করার মতো গৃহস্থালি কাজও সেরেছেন। তাকাইচি নিজেকে একজন সাধারণ ও বাস্তবধর্মী নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও, তার এই পোস্টটি (যা ইতোমধ্যে ৩ কোটি ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে) দেশজুড়ে অপর্যাপ্ত ঘুমের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
তাকাইচির এ রুটিনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিরোধীরা। দীর্ঘক্ষণ না ঘুমালে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা কমে যায় বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বিরোধী আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে বলেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মদ্যপ অবস্থার মতো দুর্বল হয়ে পড়ে, যা জাতীয় সংকট মোকাবিলায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সমালোচক হিরোইউকি কোনিশি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাজ হলো নীতির দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রতিটি নথির খুঁটিনাটি পড়ে বসে থাকা নয়।
রক্ষণশীল নেতা ইউইচিরো তামাকি তাকাইচিকে অত্যন্ত পরিশ্রমী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্রাম নেওয়াও একটি কাজ।
বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ওপর থাকা অসম সামাজিক চাপের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
টোকিওর ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামা জানান, আগের পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা ঘরের কাজের জন্য সাধারণত তাদের স্ত্রীদের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু তাকাইচিকে গৃহস্থালির অনেক কাজ নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে যেন ব্যক্তিগত কাজ করতে না হয় এবং তিনি পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারেন, সে জন্য একটি সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তাকাইচির সমর্থক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আয়ানো কুনিমিৎসুও তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অনেক রাজনীতিককেই নিজেদের গৃহস্থালি কাজ একা সামলানোর এই অজানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
প্রসঙ্গত, জাপান এমনিতেই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ‘কারোশি’ (অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যু)-এর জন্য পরিচিত। ২০১৬ সালে মাসে ১০০ ঘণ্টার বেশি অতিরিক্ত কাজ করে এক তরুণীর আত্মহত্যার পর সরকার ওভারটাইমের সীমা ৪৫ ঘণ্টা নির্ধারণ করেছিল।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি শুধু 'কাজ, কাজ আর কাজ' করবেন। নব্বইয়ের দশক থেকেই কঠোর পরিশ্রম তার রাজনৈতিক হাতিয়ার। তবে গত নভেম্বরে রাত ৩টায় ফ্যাক্স মেশিন নষ্ট হওয়ায় জরুরি কাজের জন্য সহকারীদের ডেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
এত কিছুর পরও নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ক্লান্তিহীনতার ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, আগামীকাল থেকে আমি আবার পুরো শক্তি দিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারব!
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.