07/21/2026 ভারতের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ‘চলো সংসদ’ বিক্ষোভে দিল্লিতে উত্তেজনা
মুনা নিউজ ডেস্ক
২১ জুলাই ২০২৬ ০০:৪১
ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নয়াদিল্লি। সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, আটক এবং লাঠিচার্জের অভিযোগে দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। তবে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।
সোমবার পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সংসদ ভবন অভিমুখে অভিযান শুরু করে সিজেপি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মিছিল ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এছাড়া দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কও সীমিত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আগের দিন থেকেই রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নতুন দিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৬৩ ধারা জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানায়, সংসদ অভিযানের জন্য সিজেপি কোনো অনুমতি নেয়নি এবং অনুমতি চাইলেও তা দেওয়া হতো না। যন্তর মন্তর ছাড়া অন্য কোথাও জমায়েতের অনুমতি ছিল না। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ জমায়েত বা মিছিলে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও সেবা তীর্থ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং নতুন দিল্লিকে ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়।
এত কড়াকড়ির মধ্যেও হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু করে সিজেপি। সোনম ওয়াংচুকের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ একাধিক নেতা ও বহু সমর্থককে আটক করে। পরে সৌরভ দাস দাবি করেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এখনও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
পরে জানা যায়, সিজেপি প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। দলটির প্রধান দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ওই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা জানায় সিজেপি।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে লাঠিচার্জের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে কোনো লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে তিনি সরকারের কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। সেগুলোর অন্তত একটি বাস্তবায়ন করা হলে তিনি অনশন প্রত্যাহারে রাজি বলে জানিয়েছেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.