07/14/2026 সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রেকর্ড ৮১ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত দিতে সম্মত ট্রাম্প প্রশাসন
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর, সংগৃহীত করের একটি বিশাল অংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার প্রকাশিত সরকারি বাজেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত রেকর্ড ৮১ বিলিয়ন ডলার শুল্ক বাবদ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপকে নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রধান হাতিয়ার করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সেই পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খায়, যার জেরে এখন সংগৃহীত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আমদানিকারকদের পকেটে ফেরত যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বাজেট তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত শুল্ক ফেরত বা রিফান্ড বাবদ ৮১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার। ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মে ও জুন মাসেই এই অর্থ ফেরতের সিংহভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এর পুরোটাই সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের ফল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আমেরিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো আবার সচল হবে। পাশাপাশি অন্য দেশের সঙ্গে আরও লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি করা যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের দীর্ঘদিনের ঘাটতি শূন্যে নেমে আসবে। কিন্তু শুল্ক থেকে অর্জিত আয় ফেরত দিতে বাধ্য হওয়ায় বাজেট ঘাটতি কমার বদলে উল্টো ২ শতাংশ বেড়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক ব্যয় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের বিশাল ঋণের বিপরীতে শুধু সুদ বাবদই ওয়াশিংটনকে ১ ট্রিলিয়নের বেশি ডলার গুনতে হয়েছে।
এদিকে আদালতের রায়ের কারণে হাতছাড়া হওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে এবং নিজের সুরক্ষাবাদী নীতি বজায় রাখতে নতুন কৌশল হাতে নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন করে শুল্ক আরোপের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে। বাধ্যতামূলক শ্রম আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং মাত্রাতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার অভিযোগ তুলে এবার ব্রিটেন, জাপান, ভারত, তাইওয়ান ও চীনের মতো ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের ওপর এই নতুন শুল্ক চাপানো হতে পারে, যার মাধ্যমে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আগের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়াতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্রাজিলের ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক এবং যেসব ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর বিশেষ কর বা ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’ আরোপের চিন্তা করছে, তাদের পণ্যে শতভাগ (১০০ শতাংশ) শুল্ক বসানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, কোনো দেশ যদি গুগল, অ্যাপল বা অ্যামাজনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই ডিজিটাল কর আরোপ করে, তবে অবিলম্বে তাদের যেকোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শতভাগ শুল্কের মুখোমুখি হবে। এই শুল্ক আগে থেকে করা বা সই হওয়া সমস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিকেও বাতিল করে দেবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.