07/09/2026 ন্যাটো সম্মেলনের পর তুরস্ক ত্যাগের জন্য রোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান ব্যবহার করলেন ট্রাম্প
মুনা নিউজ ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৬
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় কাতারের উপহার পাওয়া এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমান ব্যবহার করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো বিমানেই তুরস্ক ছাড়েন তিনি।
সম্মেলন শেষে নতুন বিমানটি তিনি আগে যুক্তরাজ্যের দিকে পাঠিয়ে দেন। পরে সেখানে পৌঁছে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে যাত্রার জন্য তিনি নতুন বিমানে ওঠেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, নতুন বিমানটি মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বরত সামরিক সদস্যরা যাতে এই বিমানে ভ্রমণের সুযোগ পান, সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘সবাই খুবই উচ্ছ্বসিত। আমরা মনে করেছি, তারাই আগে এ বিমানটি দেখুক। পুরোনো দিনের স্মৃতির কথা ভেবে আমরা তুরস্ক থেকে সাবেক এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ফিরব।’
তবে নতুন বিমানটির প্রথম বিদেশ সফরের মাঝপথে এই পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে তুরস্কের প্রতিবেশী ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পর বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে।
নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার রাতে এক প্রতিবেদনে জানায়, নিরাপত্তার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধেই এই পরিবর্তন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, নতুন বিমাণটিতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের কিছু সক্ষমতা এখনো নেই। তবে নির্দিষ্ট কোনো হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
উড্ডয়নের সময় সাংবাদিকদের কেবিনের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। তবে এর কোনো কারণ জানানো হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে ইরানের কথিত আগের হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই এ বিষয়ে কথা বলি। কারণ, একজন প্রেসিডেন্টের জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’
পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে এক সাংবাদিককে ট্রাম্প বলেন, ‘যাদের মোকাবেলা করতে হয়, তাদের কারণে আপনারাও সম্ভবত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে আছেন।’
ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যের পর তিনি ইরানের কথা উল্লেখ করে তাদের ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে অভিহিত করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বাসযোগ্য কোনো হুমকির বিষয়ে তিনি অবগত কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময়ই হুমকির মধ্যে থাকি। তাদের তালিকায় আমি এক নম্বরে।’
গত বছর কাতারের রাজপরিবার ট্রাম্পকে বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি উপহার দেয়। এর আগে ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দু’টি পুরোনো বিমানের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
নতুন বিমানটিকে দ্রুত সংস্কার করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজনের পর ১ জুলাই ট্রাম্পকে নিয়ে এটি প্রথম উড্ডয়ন করে।
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে আগের সাদা ও হালকা নীল রঙের পরিবর্তে লাল, সাদা ও গাঢ় নীলের নতুন রঙের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।
বহুবার বিলম্বের পর চলতি দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং এয়ার ফোর্স ওয়ান পাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কাতারের মতো একটি বিদেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে কয়েক শত কোটি ডলার মূল্যের একটি বিমান উপহার নেয়া নিয়ে সমালোচকেরা নৈতিকতা, সাংবিধানিক বৈধতা এবং নিরাপত্তা- এই তিনটি বিষয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.