06/20/2026 উহানে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণায় অর্থায়ন করেন অ্যান্থনি ফাউচি, অভিযোগ তুলসী গ্যাবার্ডের
মুনা নিউজ ডেস্ক
২০ জুন ২০২৬ ১৮:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তুলসি গ্যাবার্ড। কোভিড-১৯ মহামারির উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনের উহানের ল্যাবে ‘বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণায় অর্থায়নের জন্য সরাসরি সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচিকে দায়ী করেছেন তিনি।
নিজের দপ্তরে শেষ কর্মদিবসে ‘অপ্রকাশিত’ কিছু নথিপত্র প্রকাশ করে গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, মহামারি শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ড. ফাউচি করদাতাদের কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা চালিয়েছিলেন।
গ্যাবার্ডের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ফাউচি কেবল গবেষণায় অর্থায়নই করেননি, বরং ভাইরাসের ‘ল্যাব-লিক’ বা গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্ব ধামাচাপা দিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাব খাটিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ড. ফাউচি একটি ‘স্বার্থান্বেষী বলয়’ তৈরি করেছিলেন, যারা প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে—এমনটা প্রচার করে ল্যাব-লিক তত্ত্বকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়েছে।
গ্যাবার্ডের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে ড. ফাউচি সরাসরি মিথ্যা কথা বলেছেন। সেই শুনানিতে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি মহামারির আগে বা পরে এফবিআই, সিআইএ বা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ভাইরাল গবেষণা নিয়ে কোনো আলোচনা করেছেন কিনা। জবাবে ফাউচি বলেছিলেন, ‘কোভিড নিয়ে এমন কিছু আমার জানা নেই।’ গ্যাবার্ডের দাবি, নতুন নথিপত্রগুলো তার এই মিথ্যার অকাট্য প্রমাণ।
ব্যক্তিগত কারণে গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করা তুলসি গ্যাবার্ড এই ঘটনাকে ‘ডিপ স্টেটের’ (রাষ্ট্রের ভেতরের অদৃশ্য শক্তি) পুরোনো খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কোভিড মহামারি সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা মিথ্যাচার, সেন্সরশিপ এবং তথ্য লুকানোর ঘটনার পর এখন সময় এসেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার।
গ্যাবার্ডের অভিযোগ, ড. ফাউচি কেবল মিথ্যাই বলেননি, বরং যারা তার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, তাদের ওপর চরম দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য প্রদানকারীর ভাষ্যমতে, ফাউচির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলা অনেক বিশ্লেষককে ক্যারিয়ারের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এতে করে গোয়েন্দা দপ্তরে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে সত্যের চেয়ে আনুগত্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো।
দীর্ঘ ৩৮ বছর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-এর নেতৃত্ব দেওয়া ৮৫ বছর বয়সি ড. ফাউচি বা তার সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.