06/11/2026 হরমুজ এড়িয়ে হেজাজ রেলওয়ের পুনরুজ্জীবিত করতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের চুক্তি স্বাক্ষর
মুনা নিউজ ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬ ১৮:৩৪
তুরস্ক ও সৌদি আরব রেলওয়ে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সহযোগিতা জোরদার করতে মঙ্গলবার দুটি আলাদা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব কার্যত ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবিত করার প্রকল্পে যুক্ত হলো।
রেলপথটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে সরাসরি সংযুক্ত করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোলু সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদ সফর করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও লজিস্টিক চেইনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থায় পরিবহন খাতের বাধাগুলো দূর করা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, তুরস্ক সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক হয়ে পরিবহন রুটগুলো পুনরায় সক্রিয় করার কাজ করছে। ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি পরীক্ষামূলক ট্রেন যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা এই রুটের বাস্তব সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুদ্ধারের কথা বলে আসছে। এই রেলপথ একসময় ইস্তাম্বুল থেকে সৌদি আরবের পবিত্র শহরগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
পরিকল্পনা অনুসারে, এই রেলপথকে ভবিষ্যতে ওমান ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্য উপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে একটি বিকল্প ও নিরাপদ বাণিজ্য করিডোর তৈরি করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তুরস্ক উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইউরোপের মধ্যে প্রধান ট্রানজিট হাব, লজিস্টিক কেন্দ্র এবং জ্বালানি-বাণিজ্য করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত হবে।
গত এপ্রিলে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথের মধ্যে সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি মান নির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হেজাজ রেলপথ ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয়ের এক দূরদর্শী স্বপ্ন। ১৯০০ সালে তিনি ইস্তাম্বুলকে মক্কার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
ইসলামের পবিত্রতম দুই শহর মক্কা ও মদিনা যে হেজাজ অঞ্চলে অবস্থিত, সেই অঞ্চলের নামেই এর নামকরণ হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের অনুদানে (কিছু স্বেচ্ছায়, কিছু বাধ্যতামূলক) অর্থায়িত এই প্রকল্প অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়। মূল লাইনটি ইস্তাম্বুল থেকে সিরিয়ার দামেস্ক হয়ে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর একটি শাখা লাইন ফিলিস্তিনের হাইফা বন্দরেও পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং ধর্মীয় যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.