গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা। অনেকেই কোরবানি দিতে পারেননি, অনেকে আবার খাদ্য ও ওষুধ সংকটের মধ্যে ঈদ কাটাচ্ছেন। জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদেও কঠোর নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধের মধ্যে হাজারো মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন।
অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। মঙ্গলবার হামলায় শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যুর পরও ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার শঙ্কার মধ্যেই সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইরাক ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসব।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, মক্কা ও মদিনায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাবা শরিফ ও মসজিদে নববিতে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। হজ পালনরত মুসল্লিরাও ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কোরবানি ও দান-খয়রাতের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করছেন মুসলমানরা।
যুদ্ধের ক্ষত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানেও উদযাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা। গতকাল দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন লাখো ইরানি মুসল্লি। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়।
তবে ফিলিস্তিনে এবারের ঈদের আবহ ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, অনেক ফিলিস্তিনি এবার কোরবানির পশু কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সীমিতসংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের ফটকে তল্লাশি চালায় এবং শব্দবোমা নিক্ষেপ করলে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হেব্রনের গভর্নর খালেদ দুদিন এ ঘটনাকে ধর্মীয় সন্ত্রাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
লেবাননেও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। তবুও মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে চলমান হামলায় প্রাণহানি তিন হাজার ছাড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, অনেক পরিবার যুদ্ধের৬ কারণে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ঈদ পালন করছে।