শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার ভোর থেকেই লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার পরিবেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হচ্ছেন। দুপুর পর্যন্ত হাজীদের মিনায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া চলে।
আজ জোহর থেকে পরদিন স্থানীয় সময় ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ বলা হয়। এর মাধ্যমে শুরু হয় ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। তবে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের বিধান মেনে গতকাল রাতেই মিনায় পৌঁছেন বাংলাদেশের হাজীরা।
শরিয়তের বিধান অনুসারে হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। হাজীগণ সেখানে একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
এর আগে মসজিদ নামিরা থেকে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ। তবে হজের আনুষ্ঠানিকতা বা কার্যক্রম শেষ নয়। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন হাজীরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন এবং শুধু বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজীরা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করবেন। ১০ ও ১১ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো ওয়াজিব। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পন্ন না হলে সেই রাতও মিনায় অবস্থান করবেন হাজীরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনুমানিক ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করছেন।