বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক সচেতনতায় জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। রোববার তারা জানায়, ‘বুন্ডিবুগিও’ ভাইরাসজনিত এই প্রাদুর্ভাব এখনো মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেনি। ডব্লিউএইচও বলেছে, শনিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে কমপক্ষে তিনটি অঞ্চল- বুনিয়া, রামপারা ও মংগবালুসহ ৮০টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ৮টি সংক্রমণ এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রদেশে নতুন প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচও আরও জানায়, উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শুক্রবার ও শনিবার পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া দুটি আলাদা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। আক্রান্তরা কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসাতেও ইতুরি থেকে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।
রোগটির বিস্তার আফ্রিকা সিডিসি’কে ‘সক্রিয় কমিউনিটি সংক্রমণ’ নিয়ে সতর্কতা জারি করতে বাধ্য করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্ক্রিনিং ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করছেন। বার্তা সংস্থা এপি’র সাংবাদিকরা ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা আতঙ্ক ও প্রতিদিনের দাফনের বর্ণনা দিয়েছেন।
বুনিয়ার বাসিন্দা জ্যঁ মার্ক আসিমওয়ে বলেন, প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এটি চলছে। একদিনেই আমরা দুই, তিন কিংবা আরও বেশি মানুষকে দাফন করছি। এই মুহূর্তে আমরা আসলে জানিই না এটি কী ধরনের রোগ।
উল্লেখ্য, ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক। বমি, রক্ত বা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এই রোগ বিরল হলেও অত্যন্ত গুরুতর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী। শুক্রবার প্রথমে কঙ্গো সরকার ৬৫ জনের মৃত্যু ও ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের কথা জানিয়েছিল। আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কঙ্গো অতীতেও একাধিক ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করেছে। তবে সংঘাতপূর্ণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ পৌঁছে দিতে দেশটি প্রায়ই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
শনিবার এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় মংগবালু অঞ্চলে, যা একটি ব্যস্ত খনিশিল্প এলাকা। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসার জন্য রামপারা ও বুনিয়ায় যাওয়ার ফলে সংক্রমণ তিনটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
তার মতে, বিশেষ করে মংগবালু এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক সক্রিয় রোগী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবস্থান করছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করাকে গুরুতরভাবে জটিল করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, ইতুরিতে ইসলামিক স্টেট সমর্থিতদের হামলা অব্যাহত থাকায় নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজধানী কিনসাসা থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে ইতুরি এবং দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতায় বিপর্যস্ত।