রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনীয় সেনাদের একটি অংশ ভয়াবহ খাদ্যসংকটে পড়েছে। সামনের সারিতে টানা কয়েক সপ্তাহ পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না পৌঁছানোয় অনেক সেনা অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এপ্রিলের শেষদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারজন অত্যন্ত শীর্ণকায় (হাড্ডিসার) ইউক্রেনীয় সেনার ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। অভিযোগ ওঠে, পূর্ব ইউক্রেনের ডোনেটস্ক অঞ্চলের ওস্কিল নদীর পূর্ব তীরে অবস্থানরত সেনারা প্রায় ১৭ দিন খাবার সরবরাহ ছাড়াই ছিলেন। রুশ হামলায় সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা মূল ইউনিট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
এক সেনার স্ত্রী আনাস্তাসিয়া সিলচুক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “অনাহারে যোদ্ধারা অজ্ঞান হয়ে পড়ছে, তারা বৃষ্টির পানি পান করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, তাদের সাহায্যের আবেদন রেডিও বার্তায়ও গুরুত্ব পায়নি।
ইউক্রেনীয় সেনা ওলেক্সান্দর জানান, সামনের সারিতে দীর্ঘ সময় চকোলেট বার, ওটমিল ও অল্প পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়েছে। “সেখানে একটু গরম খাবার পাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম,” যোগ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক ড্রোন নজরদারি ও হামলার কারণে প্রচলিত রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে খাবার, ওষুধ ও গোলাবারুদ পৌঁছাতে এখন মূলত ড্রোন ও রোবোটিক যান ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে সামরিক গবেষকদের একাংশের দাবি, পুরো ইউক্রেনীয় বাহিনীর অল্প অংশই নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ পাচ্ছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে অনাহারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্রিগেডের কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাদ্যসংকট কোনওভাবেই ‘ব্যবস্থাগত সমস্যা’ হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, রুশ বাহিনীতেও খাদ্যসংকটের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু রুশ সেনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অল্প খাবার দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি অনাহারের কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।