05/13/2026 ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: ওয়াশিংটন পোস্ট
মুনা নিউজ ডেস্ক
৬ মে ২০২৬ ২১:০৯
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব আগে দেওয়া হয়েছিল, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি ভয়াবহ বলে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তথ্যের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নিখুঁত নিশানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর হ্যাঙ্গার, সেনা ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো এবং যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সাতজন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছয়জন কুয়েতে এবং একজন সৌদি আরবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চার শতাধিক যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয় ইরানের ওপর যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে। মানবাধিকার সংস্থা হারানা-র তথ্যমতে, ওই হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর ফলে ফুজাইরাহ বন্দরে একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং সেখানে কর্মরত তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে ওয়াশিংটন গত সোমবার থেকে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নামে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান নিয়ে এই পাহারা শুরু হলেও মাত্র একদিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেন। মূলত ইরানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.