04/30/2026 যুদ্ধক্ষেত্রে ধরা পড়ার চেয়ে আত্মহত্যাই ‘সর্বোচ্চ আনুগত্য’: কিম জং উন
মুনা নিউজ ডেস্ক
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৪
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে যেসব উত্তর কোরীয় সৈন্য ধরা পড়ার পরিবর্তে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন, তাদের বীরত্বের সর্বোচ্চ প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
সম্প্রতি পিয়ং ইয়ং-এর উপকণ্ঠে নবনির্মিত একটি বিশাল স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম জং উন ঘোষণা করেছেন—যারা বন্দি হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে ‘বিনা দ্বিধায় আত্মঘাতী হামলা বা বিস্ফোরণ’ বেছে নিয়েছেন, তারা রাষ্ট্রের প্রতি পরম আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন।
এই নতুন স্মৃতিসৌধটি মূলত একটি সমাধি ও জাদুঘরের সংমিশ্রণ, যেখানে যুদ্ধে নিহত সেনাদের দেহাবশেষ ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিম জং উন সেখানে হাঁটু গেড়ে বসে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রচারণামূলক এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের সেনাদের মৃত্যুকে মহান দেশপ্রেম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক সৈন্য ঘেরাও হওয়ার সময় নিজেদের গ্রেনেড দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন অথবা আহত অবস্থায় ধরা পড়া এড়াতে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলত্যাগীরা দাবি করে আসছিলেন যে, উত্তর কোরীয় সেনাদের ধরা পড়ার চেয়ে আত্মহত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিম জং উনের এই প্রকাশ্য প্রশংসা সেই দাবিকেই কার্যত নিশ্চিত করল। পশ্চিমা বিশ্বের অনুমান অনুযায়ী, রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহত হয়েছেন। কিম জং উনের এই পদক্ষেপকে নিজ দেশের সেনাদের মনোবল ধরে রাখা এবং যুদ্ধের ক্ষতিকে বীরত্ব হিসেবে মহিমান্বিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.