04/28/2026 ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে দনবাস অঞ্চলে ‘ডনিল্যান্ড’ গঠনের প্রস্তাব ইউক্রেনের
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৫৪
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সম্প্রতি দনবাস অঞ্চলের একটি অংশের নাম ‘ডনিল্যান্ড’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুষ্ট করার আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রস্তাবিত এই এনক্লেভটির আয়তন গ্রেটার লন্ডনের তুলনায় প্রায় তিন থেকে চার গুণ বড় হওয়ার কথা। তথ্য অনুযায়ী, এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল, যাতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি অর্জন হিসেবে দেখায় এবং তাঁকে মস্কোর প্রতি সমর্থন থেকে কিছুটা সরে আসতে প্রভাবিত করে।
খবরে বলা হয়েছে, এক ইউক্রেনীয় আলোচক এমনকি এই কল্পিত ক্ষুদ্র অঞ্চলটি জন্য একটি জাতীয় সংগীত এবং সবুজ-সোনালি পতাকা তৈরিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এটি কখনোই আনুষ্ঠানিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তবুও আলোচনায় বিষয়টি বারবার উঠে আসে, অনেকটা রসিকতার ছলেই।
কিয়েভের আলোচকেরা বিশ্বাস করতেন, ট্রাম্পের নাম কোনো ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাঁর শিবিরকে মস্কোর বিস্তৃত ভূখণ্ডগত দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। প্রায় ৪০ বাই ৫০ মাইল আয়তনের ‘ডনিল্যান্ড’ ইংল্যান্ডের লেক ডিস্ট্রিক্টের দ্বিগুণেরও বেশি বড় হওয়ার কথা ছিল, যা এটিকে বিদ্যমান ডিমিলিটারাইজড বা অসামরিকীকৃত জোনগুলোর তুলনায় অনেক বড় করে তুলত।
আলোচকেরা যুদ্ধপরবর্তী একটি বিকল্প কাঠামোর প্রস্তাবও দেন, যার নাম ছিল ‘মোনাকো মডেল।’ ফ্রান্সের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের নগর রাষ্ট্র মোনাকোর আদলে। ডনিল্যান্ডকে ছোট একটি আংশিক স্বশাসিত সত্তার কল্পনা করা হয়েছিল, যা অফশোর অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে কাজ করে সুবিধা পেতে পারে। তাঁরা আরও প্রস্তাব দেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনা তদারকির জন্য গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘বোর্ড অব পিস’ এই অঞ্চলের প্রশাসনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে যে তারা অনেকের দৃষ্টিতে মস্কোর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এটি ইউক্রেনকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য দায়ী করেছে বলেও মনে হয়েছে, সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে এবং কিয়েভকে মস্কোর সর্বোচ্চ দাবিগুলো মেনে নিতে চাপ দিয়েছে। প্রস্তাবিত অঞ্চলটির খুব কম অংশই এখন কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে এবং একসময় ইউক্রেনের প্রাণবন্ত এই শিল্পাঞ্চল এখন যুদ্ধে বিধ্বস্ত।
তবে ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাশিয়াকে দনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না দিলে তিনি আক্রমণ বন্ধ করবেন না। দনবাসে রয়েছে খনিজ ও কয়লাসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কিয়েভের জন্য ‘রেড লাইন’।
ক্রেমলিনের বাহিনী লুহানস্কের প্রায় পুরো অংশ দখল করেছে, সামান্য অংশ ছাড়া। পাশাপাশি তারা দোনেৎস্কের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অঞ্চল পুরোপুরি দখল করতে মস্কোর আরও দুই থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে এবং আরও ১০ লাখ সেো প্রয়োজন হতে পারে।
জেলেনস্কির মতে, এর আগে ওয়াশিংটন কিয়েভকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অঞ্চলের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে এখনও প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ বসবাস করছে।
এই এলাকাটির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো—কোস্তিয়ানতিনিভকা, ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক—যেগুলো রাশিয়ার অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ দেয়াল হিসেবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জড়িত। মস্কো, কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.