04/28/2026 এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হাসিনা আযমীর হেফাজতে ছিলেন
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:০৭
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরার সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসন আমলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসায় তার অধীনে রাখা হয়েছিল। সে সময় তিনি ‘মার্শাল ল’–এর দায়িত্ব পালন করতেন।
সোমবার আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। সে সময় আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ তথ্য দেন।
জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম এবং মার্শাল ল–এর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে ওই বাড়িতে কয়েক দিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মেজর জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বলেও জেরায় জানান আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, তবে সেনাবাহিনী থেকে এই পদোন্নতি–সংক্রান্ত কোনো আদেশ না হওয়ায় তিনি জবানবন্দিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) পদবি ব্যবহার করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাক্ষী আযমী আরও বলেন, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িভাড়া বাবদ চার কোটি টাকা দিয়েছে সেনাবাহিনী। কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে বন্দীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে এই চার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এ কথা সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে সাবজেলে আছেন তিনজন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.