04/24/2026 তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সামরিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হল ছুটিতে
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৮
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতার সামরিক তথ্য ফাঁস করায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পারমাণবিক ও রাসায়নিক নিরাপত্তা বিষয়ক দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি এক অচেনা ব্যক্তির কাছে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসে একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের পর। ওই ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু হাগকে একটি জনসমাগমপূর্ণ রেস্তোরাঁয় বসে সামরিক ও পারমাণবিক নীতিসংক্রান্ত গোপন বা সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন রক্ষণশীল কর্মী জেমস ও’কিফ, যিনি প্রজেক্ট ভেরিটাসের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরবর্তীতে ও’কিফ মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে এ ধরনের অনুসন্ধানী ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন।
জেমস ও’কিফ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পারমাণবিক কর্মকর্তা একজন ‘অপরিচিত ব্যক্তির’ কাছে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য ফাঁস করতে ধরা পড়েছেন। বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ‘নার্ভ এজেন্ট বা গ্যাস’-এর সংস্পর্শে এসে সেনা রসায়নবিদের মৃত্যু, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশু নিহত হওয়া ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনার মতো তথ্য প্রকাশ করেছেন।
নার্ভ এজেন্ট হচ্ছে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল বা অকার্যকর করে দিতে পারে। এর সংস্পর্ষে এলে দৈহিক কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। এই রাসায়নিক আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১৯৯৩ সালের রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (সিডব্লিইউসি) অনুযায়ী এগুলোর উৎপাদন, মজুদ, হস্তান্তর ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হয় ১৯৯৭ সাল থেকে।
ও’কিফের দাবি অনুযায়ী, হাগ যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর পারমাণবিক ও রাসায়নিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাইরাল ভিডিওতে তাকে একজন ছদ্মবেশী নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কার্যক্রম নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার কাজ হলো রাসায়নিক ও পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভিডিওতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ও রাসায়নিক নিরাপত্তা প্রধান অ্যান্ড্রু হাগ, একটি গোপন ক্যামেরায় রেস্তোরাঁয় একজন অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেন। হাগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও নার্ভ গ্যাস রয়েছে ও এক সেনা রসায়নবিদ সম্প্রতি তার সংস্পর্শে মারা গেছেন।
ভিডিওতে হাগ আরও দাবি করেন, তার দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থায় কাজ করা ব্যক্তিরা নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করি যেন দায়িত্বে কোনও অস্থির বা বিপজ্জনক মানসিকতার মানুষ না থাকে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যদিও দুই দেশ তখন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় ছিল। তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যদি ‘তার আচরণ না বদলায়’ তাহলে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে বেসামরিক নাগরিক, এমনকি শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, যাকে তিনি ‘যুদ্ধের অনিবার্য ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, যুদ্ধে শিশুরা সবসময়ই মারা যায়।
ভিডিওতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, মহাকাশে স্থাপিত সেন্সর, রাডার ও উপগ্রহের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয় এবং তার গতি, আকার সবই নির্ধারণ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বার্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা এমনভাবে প্রশিক্ষিত যে, যদি কোনও গাইড স্কাউটও এসে লঞ্চ বার্তা দেয়, তবুও সেটি যাচাই করা হয়।
হাগ আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে নার্ভ এজেন্ট রয়েছে ও সেগুলো মেরিল্যান্ডের একটি স্থাপনায় সংরক্ষিত। এই রাসায়নিক পদার্থ শরীরে গেলে ফুসফুস, মাথা কিছুই কাজ করে না।
তিনি আরও একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, যেখানে এক ল্যাব রসায়নবিদ সুরক্ষা পোশাক না পরে কাজ করায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন ও সেই সংস্পর্শের ফলে আশপাশের মানুষেরও ঝুঁকি তৈরি হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী হাগকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সিনথিয়া স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছি ও বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও প্রকাশের পর তাকে প্রতিরক্ষা সদর দফতর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.