04/23/2026 অবৈধ শুল্ক আদায়ে ১৬০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মুনা নিউজ ডেস্ক
২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৪
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে এর আগেই বেশ বড় অঙ্কের শুল্ক সংগ্রহ করে ফেলে ট্রাম্প প্রশাসন। যেহেতু এটি অবৈধ, তাই এখন সেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বৃহত্তম ‘রিপেমেন্ট’ বা অর্থ ফেরত কর্মসূচি হতে যাচ্ছে। তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে এই অর্থ ফেরতের আবেদন করতে পারলেও পণ্য কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সাধারণ ভোক্তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত কাস্টমস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, সরকারের সংগ্রহ করা ১৬০ বিলিয়ন ডলারের (১২১ বিলিয়ন পাউন্ড) বেশি অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হবে। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ ফেরতের সুযোগ পাচ্ছে। এই রিফান্ডগুলো মূলত ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্টের (আইইপিএ) আওতায় ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিচারক রিচার্ড ইটন গত মার্চে বলেছিলেন, যেসব আমদানিকারকের এন্ট্রি আইইইপিএ শুল্কের আওতাভুক্ত ছিল, তারা সবাই উচ্চ আদালতের এই রায়ের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
আবেদনপ্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি আমদানিকারক অনলাইনে আবেদনের প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার (৯৪ বিলিয়ন পাউন্ড)। অর্থ ফেরতের এই আবেদন গ্রহণের জন্য ‘কেপ’ (Cape) নামক একটি বিশেষ পোর্টাল গত সোমবার থেকে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘কেপ’ পোর্টালটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দ্রুততার সঙ্গে রিফান্ড প্রসেস করা যায়। সফল আবেদনকারীরা আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সুদে-আসলে এই অর্থ হাতে পাবেন।
তবে শুল্ক ফেরতের দাবিতে আন্দোলনরত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি জোট জানিয়েছে, কেউ কেউ সহজে আবেদন করতে পারলেও অনেকে কারিগরি ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জোট উই পে দ্য ট্যারিফসের নির্বাহী পরিচালক ড্যান অ্যান্থনি বলেন, প্রত্যাশিতভাবেই রিফান্ড পোর্টালটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা রিফান্ডের চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নিয়ে বেশি চিন্তিত, যা আগের সব রিফান্ডকে ম্লান করে দিতে পারে।
ইলেকট্রিক বাইক কোম্পানি বাঞ্চ বাইকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যারন পাওয়েল জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ডলার রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে পেরেছেন। রিফান্ডের এই টাকা তিনি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শুল্ক মোকাবিলায় ‘বাফার’ হিসেবে রাখবেন।
অন্যদিকে লার্নিং রিসোর্সেসের প্রধান নির্বাহী রিক ওল্ডেনবার্গ অভিযোগ করেছেন, সিস্টেমটি অতিরিক্ত চাপের কারণে বারবার কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। ওল্ডেনবার্গের কোম্পানিই মূলত এই শুল্কের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেছিল।
ট্রাম্পের শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু সরকারিভাবে ভোক্তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে ভোক্তারা বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘ক্লাস অ্যাকশন’ মামলা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, কোম্পানিগুলো শুল্ক বাবদ যে রিফান্ড পাবে, তা সাধারণ ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
সানগ্লাস ও চশমা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসিলর-লাক্সোটিকা, ফেডেক্স ও কস্টকোর মতো বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভাক্রিস অবশ্য জানিয়েছেন, তারা রিফান্ডের অর্থ পণ্যের দাম কমিয়ে গ্রাহকদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তবে ল্যাম্প প্রস্তুতকারক সু জনসনের মতো খুচরা ব্যবসায়ীদের কোনো আশা নেই। তিনি জানান, শুল্কের কারণে তাঁর সরবরাহকারীরা কাঁচামালের দাম দ্বিগুণ করেছিলেন। তিনি মনে করেন না, তাঁর সরবরাহকারীরা রিফান্ড পেলেও তাঁকে কোনো টাকা ফেরত দেবেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ সরাসরি এই রিফান্ডের সুবিধা পাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কোম্পানিগুলো যেন এই বাড়তি অর্থ কর্মীদের বোনাস হিসেবে দেয়। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও গত ফেব্রুয়ারিতে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার মনে হয় না আমেরিকান জনগণ এই অর্থ দেখতে পাবে।’
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর আমদানিকারকেরা দাম বাড়িয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শুল্কের পুরো খরচ তারা ক্রেতাদের ওপর চাপাতে পারেননি। ফলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের বিক্রিও কমে গেছে। সব মিলিয়ে শুল্ক ফেরতের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হলেও সাধারণ আমেরিকানদের জন্য প্রাপ্তির খাতা হয়তো শূন্যই থাকছে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে ‘হারবার মেইনটেন্যান্স ট্যাক্স’ অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ার পর এক লাখের বেশি দাবিদারকে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করেছিলেন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। বিচারক জেন রেস্তানি সেই বিশাল প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছিলেন, যিনি এখনো এই আদালতে কর্মরত আছেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.