03/25/2026 ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেয়ার দাবি পাকিস্তানের
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৩
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকান প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া একটি নথি তারা ইরানিদের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এখন তারা এর জবাবের অপেক্ষায় আছেন।
এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক হতে পারে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করে আসছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির জন্য ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরান বলছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি।
আমেরিকান শান্তি প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রধান শর্তগুলো হচ্ছে-
১. ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
২. ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এসব গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে ইরানকে বিরত থাকতে হবে।
৪. বর্তমানে ইরানের যেসব পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।
৫. ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।
৬. ইরানের ভূখণ্ডে কোনও পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না। বর্তমানে থাকা সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএ’র কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৭. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
৮. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে; যা কি না শুধু আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইরান যদি এসব শর্ত মেনে নেয় তবে বিনিময়ে তারা নিচের সুবিধাগুলো পাবে
১. বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।
২. ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
৩. ভবিষ্যতে আর কখনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না- এমন নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসব্যাপী একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার- কোনও পক্ষই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন আমেরিকান সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.