03/18/2026 কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৮ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৫
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর তেল অবরোধের মধ্যে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে কিউবা। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপ রাষ্ট্রটি ‘দখল’ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জীবনভর যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের কথা শুনে আসছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এটা করবে?’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, কিউবাকে নেয়ার সম্মান আমারই হবে। আমি এটাকে মুক্ত করি বা দখল করি- সত্যি বলতে চাইলে, আমি যা চাই তাই করতে পারি। তারা এখন খুবই দুর্বল একটি দেশ।’
এটি ছিল কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্পের সবচেয়ে স্পষ্ট হুমকিগুলোর একটি।
একই সময়ে ৯৬ লাখ মানুষের এই ক্যারিবীয় দ্বীপ আবারো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়ে।
ইউনিয়ন নাসিওনাল ইলেকট্রিকা দে কিউবা (ইউএনই) জানায়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, এ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়।
কিউবার পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।
৩ জানুয়ারি কিউবার প্রধান মিত্র ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর থেকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত তেল অবরোধ জারি রেখেছে।
৯ জানুয়ারি থেকে দ্বীপটিতে কোনো তেল আমদানি হয়নি। এতে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো, যা গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খাতে একটি বড় ধাক্কা।
অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সোমবার কিউবার এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জানান, প্রবাসী কিউবানরা এখন দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার মালিক হতে পারবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-ওলিভা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সাথে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবান ও তাদের বংশধরদের সাথে স্বচ্ছন্দ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কিউবা উন্মুক্ত।’
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় বলে কিউবান কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিতে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। গত সপ্তাহে এক বিরল
সহিংস ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা কমিউনিস্ট পার্টির একটি প্রাদেশিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। রাতে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে ‘লিবেরতাদ’ বা স্বাধীনতার স্লোগান দেয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
হাভানার পূর্বে প্রায় ৭০ হাজার জনসংখ্যার মোরন শহরে ওই হামলার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ইনভাসর।
এই সহিংসতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে দিয়াজ-কানেল বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদের জনগণের অসন্তোষ আমি বুঝি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি ব্যাখ্যাতীত ও অগ্রহণযোগ্য।’
জ্বালানি সঙ্কটের কারণে, সরকার পেট্রোল বিক্রি রেশনিং করেছে। কিছু হাসপাতাল সেবাও সীমিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে দিয়াজ-কানেল নিশ্চিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অসাধারণ হুমকি’ তৈরি হওয়ায়, জ্বালানি অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
রোববার তিনি বলেন, কিউবা একটি ‘চুক্তি’ করতে চায়। ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হলেই দ্রুত এই চুক্তি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো যা করার দরকার, তাই করব।’
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.