03/14/2026 যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করছে ভারত
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৩ মার্চ ২০২৬ ২২:১৬
কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত করতে যাচ্ছে ভারত। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ‘অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা’ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে তদন্ত শুরু করায় এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
শুরুর দিকের আলোচনা অনুযায়ী, চলতি মাসে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা। তবে সূত্রগুলো বলছে, নতুন পরিস্থিতির কারণে এই সময়সূচি কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও আমেরিকান কর্মকর্তারা আশা করছেন, ভারত তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
নয়াদিল্লির আশা ছিল চলতি মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে পরে তা পূর্ণাঙ্গ করা। এই চুক্তির আশ্বাসে গত মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমাতে সম্মত হন। বিনিময়ে ভারতও কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে ছিল রাশিয়ার কাছে থেকে তেল আমদানি বন্ধ করা, আমেরিকান পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনা।
চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া সূত্রগুলোর সবাই সরকারি কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানেন বা অবগত। কিন্তু গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থগিত রাখার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তির কথা উভয়পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে।’ তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কবে স্বাক্ষর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কাজ করে যাচ্ছে।
ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিলের পর থেকেই আলোচনা গতি হারায়। এরপর ইরান ঘিরে ওয়াশিংটন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যস্ত থাকায় আর উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
সূত্রগুলো আরো জানায়, ভারত কখনোই রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। শুধু গতি কমিয়ে দিয়েছিল। এখন জ্বালানি সংকট কাটাতে উল্টো আমেরিকান কর্মকর্তারা নয়াদিল্লিকে রাশিয়ান তেল কেনা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি তদন্ত। ভারতসহ বাণিজ্য অংশীদার ১৬টি দেশের উৎপাদন খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্রগুলোর একজন বলেছেন, ‘আমরা কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে তাড়াহুড়া করছি না।’ তার ভাষায়, নতুন এই তদন্ত আসলে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে চাপ প্রয়োগের কৌশল। সূত্রটি জানায়, এটিই পুরো প্রক্রিয়ায় এক ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পরিবর্তন কীভাবে এগোয় তা দেখার জন্য ভারত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নীতি গ্রহণ করবে। কারণ, ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক কমানোর সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি মস্কোর অপরিশোধিত তেল আমদানি কমাতে রাজি হয়েছে।’ কিন্তু ভারত এমন কোনো কথা আসলে বলেনি। তারা শুধু বলেছিল, জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করবে।
সবশেষ এই তদন্তটি শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর আওতায়। ভারত সরকারের সূত্রটি জানায়, সুযোগ পেলে নয়াদিল্লি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে চায়। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রথমে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবে। এরপর প্রয়োজন হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দারস্থ হওয়ার মতো বিকল্প পথ বিবেচনা করবে।
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শুল্ক আরোপের আরো উপায় আছে। এর মধ্যে ৩০১ ধারাও অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবার ইন্ডিয়া টুডে মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত এক সম্মেলনে সার্জিও গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে- চুক্তি করা দেশগুলো চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাবে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.