03/11/2026 ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন শান্তি এবং চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করলেন ট্রাম্প-পুতিন
মুনা নিউজ ডেস্ক
১০ মার্চ ২০২৬ ২০:১৮
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেনে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনপ্রধান পুতিন বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি–সংকটের হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই দুই নেতার মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের ফলে তেলের বাজারে ব্যাপক দরবৃদ্ধি ঘটেছে। এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর তেলের দাম বেড়েছিল। তবে এবারের জ্বালানি–সংকটের ধারেকাছেও যায়নি তখন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, চলতি বছর দুই নেতার মধ্যে গতকাল প্রথম ফোনে কথা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেন। তাঁরা ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার রুশ পরিকল্পনা, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে ভেনেজুয়েলার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, পুতিন ইরান ইস্যুতে সাহায্য করতে আগ্রহী।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছি, আপনি যদি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে সেটি বেশি সহায়ক হবে। ওটাই হবে আসল সাহায্য।’
পুতিন সতর্ক করে দেন, ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি–সংকট তৈরি করেছে। তাঁর এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল তেল উৎপাদন শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পুতিন বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুত থাকা রাশিয়া আবার ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় ফিরতে চায়।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এ অস্থিরতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর কথা ভাবছে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই ঘোষণা আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ফলে তেলের সরবরাহে যে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার আয় বন্ধ করার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার মধ্যে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অথবা ভারতের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তির ভয় ছাড়াই রুশ তেল কিনতে পারে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তেলের দাম কমাতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেব।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এরপর কে জানে, হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। তখন হয়তো শান্তি ফিরে আসবে। তবে সময় এলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও সহযোগীরা প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ–ঘাটতি মেটাতে গত সপ্তাহে ভারতকে সমুদ্রপথে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল সাময়িকভাবে কেনার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও রুশ তেল নিষেধাজ্ঞামুক্ত করতে পারে। রাশিয়ার বিনিয়োগ–সংক্রান্ত বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ গত শনিবার বলেন, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন।
ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাটি ছিল ‘খুবই অর্থবহ’ এবং এটি দুই দেশের পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে ‘ব্যবহারিক গুরুত্ব’ বহন করবে।
উশাকভ আরও বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি মীমাংসার মাধ্যমে ‘ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ’ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.