03/08/2026 ইরানের নেতৃত্ব 'পঙ্গু; অদূর ভবিষ্যতে কিউবার পতন ঘটতে যাচ্ছে: ট্রাম্প
মুনা নিউজ ডেস্ক
৮ মার্চ ২০২৬ ০০:০০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে পড়েছে এবং তিনি দেশটিতে এমন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবেন। এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান ইস্যু ছাড়াও কিউবা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে ইরান যতটা শক্তিশালী ছিল, এখন তারা তেমন নেই। তারা এখন কার্যত অক্ষম হয়ে পড়েছে।’ ইরানের পরবর্তী নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে চান। ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যেমন নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে, ইরানেও তেমনটি করা সম্ভব।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ইরানে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিবর্তে ধর্মীয় নেতৃত্ব এলেও তাঁর আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিটি কেমন তার ওপর সবকিছু নির্ভর করে। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গেই কাজ করি, তাঁরা চমৎকার। আমার মূল শর্ত হলো—নেতাকে হতে হবে ন্যায়পরায়ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের প্রতি অনুগত।’
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামা ও বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বন্ধুদের অবজ্ঞা করেছিল, কিন্তু তিনি তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করেছেন।
ইরানের পর কিউবা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কিউবার পতন ঘটতে যাচ্ছে। তারা মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কো রুবিওকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেছিলেন, কিউবান আমেরিকানদের স্বদেশে ফেরার সময় হয়ে এসেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্প খুব একটা চিন্তিত নন। তিনি বলেন, এটি সাময়িক এবং খুব দ্রুত দাম কমে যাবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের নৌবাহিনীকে পঙ্গু করে দিয়েছি। তাদের প্রায় ২৫টি বড় যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে তারা এখন আর কিছুই করতে পারবে না।’
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কারের ওপর জোর দেন। তিনি ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি নির্বাচনে ভোটার আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা, নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র থাকা এবং অতি সীমিত আকারে মেইল-ইন ব্যালট ব্যবহারের দাবি জানান। এ ছাড়া খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ এবং তরুণদের ট্রান্সজেন্ডার অস্ত্রোপচার বন্ধের দাবিও তাঁর নতুন শর্তগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে জন কর্নিন নাকি কেন প্যাক্সটনকে তিনি সমর্থন দেবেন, তা নির্ভর করছে এই আইনের প্রতি তাঁদের সমর্থনের ওপর। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই আইন পাস করতে প্রয়োজনে সিনেটের ‘ফিলিবাস্টার’ নিয়ম বাতিল করতে হবে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.