02/28/2026 সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বড় সিদ্ধান্ত' নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এম সাখাওয়াত হোসেন
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৭
সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও ‘বড় সিদ্ধান্তগুলো’ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নয়, বরং পরিষদের বাইরে থেকে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়েও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন বলে অনুযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারের কেউ আমার কোনো পরামর্শ চায়নি। আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না।’
সাক্ষাৎকারে সাবেক এই উপদেষ্টা সরকারের ভেতর একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি জানান, বড় সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই বাইরে নির্ধারিত হয়ে যেত। নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তার সামনে না এলেও তিনি শুনেছেন যে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেল এবং এর যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে কথা বলে আলোচিত হয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, ‘পুলিশের এই মারাত্মক মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে কীভাবে গেল, তা নিয়ে আমি তদন্ত করতে চেয়েছিলাম। ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন ও চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।’
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই অস্ত্র ও স্নাইপাররা হয়তো ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে কোনো তদন্ত করার সুযোগ পাওয়ার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেছিলেন, ‘আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।’ তবে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধ ও আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান।
উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিশেষজ্ঞ ২০২৪ সালের অগাস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি তার এই অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে আনলেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.