02/23/2026 যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ হাসপাতালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৪
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এলোমেলো মন্তব্য’ না করে সরাসরি কথা বলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিয়েলসেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে দ্বীপ অঞ্চলটিতে তিনি একটি যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন।
ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লিখেছিলেন, তিনি চিকিৎসাসামগ্রীভর্তি একটি জাহাজ পাঠাতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বীপটিতে ‘অনেক মানুষ অসুস্থ এবং ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে উত্তর হলো—লাগবে না, ধন্যবাদ। গ্রিনল্যান্ডে সব নাগরিকের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বিশাল আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। প্রয়োজনে এটি দখল করারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেন, তিনি জোর করে এটি দখল করবেন না।
পরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো’ ঘোষণা করেন। তখন ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্ররা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, তারা সার্বভৌমত্ব ছাড়ার কোনো আহ্বানে সাড়া দেবে না।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি এবং তাঁর গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক দূত জেফ ল্যান্ড্রি মিলে গ্রিনল্যান্ডে একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ পাঠাতে যাচ্ছেন, যেন সেখানে অসুস্থ এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া অনেক মানুষের যত্ন নেওয়া যায়। ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘এটি পথে রয়েছে।’
ট্রাম্প ওই পোস্টে এআই দিয়ে তৈরি একটি জাহাজের ছবি যুক্ত করেন। এটিকে দেখতে ইউএসএনএস মার্সি জাহাজের মতো দেখাচ্ছিল। ইউএসএনএস মার্সি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পরিচালিত দুটি হাসপাতাল জাহাজের একটি।
তবে ট্রাম্প আসলে ওই জাহাজগুলোর কোনোটিকে বোঝাচ্ছিলেন কি না বা কী কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন বলেন, ‘ট্রাম্পের পরিকল্পনাটির বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের একটি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা আছে, যেখানে নাগরিকদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিয়েলসন ফেসবুকে আরও লেখেন, ‘এটা (গ্রিনল্যান্ড) যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, যেখানে চিকিৎসকের কাছে যেতে অর্থকড়ি লাগে।’
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য এখনো খোলাখুলি অবস্থানে আছে। তবে তিনি সরাসরি আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
নিয়েলসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমবেশি এলোমেলো মন্তব্য করার বদলে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।’
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.