02/23/2026 সুপ্রিম কোর্ট পূর্ববর্তী পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার পর আমদানি শুল্ক ১৫% বাড়ালেন ট্রাম্প
মুনা নিউজ ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫২
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর অস্থায়ী শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্ববর্তী শুল্ক কর্মসূচি বাতিল করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা আসে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয়, ট্রাম্প অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার আইনের অধীনে উচ্চ হারের শুল্ক আরোপ করে তার ক্ষমতা অতিক্রম করেছেন। রায়ের পরপরই ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শনিবার তিনি সেই হার আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা জানান।
ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ ‘সেকশন ১২২’ নামে পরিচিত একটি আলাদা আইনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এই আইনে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অনুমতি রয়েছে, তবে ১৫০ দিন পর তা বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। কোনো প্রেসিডেন্ট এর আগে এই ধারাটি কখনো ব্যবহার করেননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেস সদস্যদের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, রিপাবলিকান-সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস এই শুল্ক বাড়ানোর অনুমোদন দেবে কি না। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আমেরিকান এই শুল্ককে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস তার পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন এক অসাধারণ ক্ষমতার দাবি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি একতরফাভাবে সীমাহীন পরিমাণে, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং বিস্তৃত পরিসরে শুল্ক আরোপ করতে পারেন। কিন্তু এমন ক্ষমতার ব্যাপ্তি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংবিধানিক কাঠামো বিবেচনায় তা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখানো জরুরি।
আদালত আরও উল্লেখ করে, যে জরুরি ক্ষমতার ভিত্তিতে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা যথেষ্ট নয়।
বিচারকদের এমন সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায়কে ‘জাতির জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। আদালতের এই রায়ে তার গ্লোবাল শুল্ক নীতি বাতিল করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
তিনি আদালতের উদারপন্থি বিচারকদের ‘জাতির জন্য লজ্জা’ এবং রক্ষণশীল বিচারকদের যারা রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের ‘অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক’ বলে আক্রমণ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই রায় আমাদের দেশের জন্য একটি অপমান।
তবে রায়ের পরও ট্রাম্প তার শুল্ক নীতি থেকে পিছু হটতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের অধীনে তার কাছে শুল্ক আরোপের পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার শুল্ক আরোপের অধিকার আছে এবং সবসময়ই ছিল। এই রায় আমাকে থামাতে পারবে না।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.