02/11/2026 জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো মানচিত্রের পোস্টটি মুছে ফেলল ইউএসটিআর
মুনা নিউজ ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০৩
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি মানচিত্রসংবলিত পোস্ট মুছে দিয়েছে, যেখানে চীন ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত কিছু এলাকা ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। মানচিত্রটিতে সম্পূর্ণ জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখকে ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর এবং চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন আকসাই চিনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইউএসটিআর পোস্টটি প্রকাশ করে। পরে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত আজাদ কাশ্মীর ও আকসাই চিনকে বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে এলেও ওই মানচিত্রে কোনো ধরনের বিতর্কিত সীমানা দেখানো হয়নি। বরং পুরো এলাকাকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এটি ভারতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বার্তা হতে পারে—বিশেষত এমন সময়ে যখন চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অন্যদের মতে, এটি হয়তো একটি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত এতে প্রতিফলিত হয়েছে, যদিও শুল্কসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তা সাময়িকভাবে আড়ালে ছিল। তবে বিতর্কের মধ্যেই ইউএসটিআর শেষ পর্যন্ত পোস্টটি সরিয়ে নেয়।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে মানচিত্র প্রকাশ করত, সেখানে আজাদ কাশ্মীর ও আকসাই চিনকে আলাদা চিহ্ন বা দাগ দিয়ে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু মুছে ফেলা পোস্টে এমন কোনো চিহ্ন ছিল না।
এই ঘটনাকে পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার ওয়াশিংটন সফর করে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, এমনকি ট্রাম্পের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ইউএসটিআরের প্রকাশিত গ্রাফিকটি মূলত ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য কাঠামো তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ভারত শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাদাম, লাল সরগম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইন এবং মার্কিন ওয়াইন ও মদ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাতে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.