02/09/2026 বাংলাদেশের হিন্দুদের 'লড়াই' করার প্রকাশ্য উস্কানি দিচ্ছেন আরএসএস প্রধান
মুনা নিউজ ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২৯
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি অব্যাহত রেখেছে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত এবার বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘লড়াই’ করার প্রকাশ্য উস্কানি দিয়েছেন। রবিবার মুম্বাইয়ে আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।
মোহন ভাগবত তার বক্তব্যে দাবি করেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু রয়েছে। তারা যদি সেখানে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিশ্বের সমস্ত হিন্দু তাদের পাশে দাঁড়াবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে এভাবে বিদেশের মাটি থেকে লড়াইয়ের উস্কানি দেওয়া আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
বাংলাদেশে ‘জুলাই বিপ্লবে’ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আরএসএস ও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। মোহন ভাগবত বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার অতিরঞ্জিত বর্ণনা দিয়ে বিশ্বব্যাপী হিন্দুদের এই ‘লড়াইয়ে’ শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি তিনি ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যা তাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়েও বিষোদগার করেছেন ভাগবত। তিনি ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের’ ধুয়া তুলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ডাক দেন। তিনি বলেন, ‘‘অতীতের সরকারগুলো জনসংখ্যা পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেনি, কিন্তু বর্তমান সরকার (বিজেপি) এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’’
মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আরএসএস-এর কৌশল সম্পর্কে ভাগবত জানান, তারা সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সুক্ষ্মভাবে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরএসএস প্রধানের এই ‘লড়াইয়ের ডাক’ মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার এবং বাংলাদেশের বর্তমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
উল্লেখ্য যে, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চরমপন্থী সংগঠনটি শুরু থেকেই ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ওপর তাদের ব্যাপক আদর্শিক প্রভাব রয়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.