02/01/2026 দুবাইয়ে রমজান : এমন এক শহর যা দিনে মন্থর, রাতে হয় উজ্জ্বল
মুনা নিউজ ডেস্ক
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৫
সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্য রমজান একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজান আত্মসমালোচনা, সিয়াম সাধনা ও সামাজিক সম্প্রীতি চর্চার মাস। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পৃথিবীর অন্যতম পর্যটকপ্রিয় শহর দুবাই এর ব্যতিক্রম নয়। এই শহরে বিপুলসংখ্যক অমুসলিম পর্যটক ও ব্যবসায়ীর আনাগোনা থাকায় রমজান মাসের পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য রক্ষা করা এখানে অত্যন্ত জরুরি।
রমজানে কোলাহলমুখর দুবাই শহরের গতি দিনের বেলা খানিকটা কমে যায়। সন্ধ্যার পর শহরটি জেগে ওঠে, গতিশীল হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নানা ধরনের সেবামূলক উদ্যোগ দেখা যায়। তারা বিশেষভাগে রোজাদারদের ইফতার ও সাহরির আয়োজন করে। পূর্বে দিনের বেলা রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে খোলার অনুমতি না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা সারা দিন খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সম্মানবোধের জায়গা থেকে দিনের বেলা জনসমক্ষে খাওয়া, পান করা, ধূমপান করা বা চুইংগাম চিবানোকে নিরুৎসাহ করা হয়েছে। অনেক হোটেল ও ভেন্যু যারা রোজা রাখে না তাদের জন্য আলাদা ও গোপন খাবার স্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। কিছু রেস্তোরাঁ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে শহরের পরিবেশ বদলে যায়। দুবাইয়ের হোটেলগুলোতে ঐতিহ্যবাহী আরবীয় খাবার ও জনপ্রিয় খাবারের আয়োজন করা হয়। দুবাইয়ে ইফতারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং তা গ্রহণ করাকে ভদ্রতা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। বছরের অন্য সময়ে দুবাই শহরের পোশাকের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু রমজান মাসে জনসমাগমস্থল, সাংস্কৃতিক স্থান ও ঐতিহাসিক এলাকায় সংযত পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। কাঁধ ও হাঁটু ঢেকে রাখতে বলা হয়। কেননা এটি সহজ, কিন্তু সম্মানজনক আচরণ, যা স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতার প্রতিফলন।
দৈনন্দিন রুটিনেও পরিবর্তন আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রোজা রাখা হোক বা না হোক, সব কর্মীর জন্য কাজের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়। শপিং মলগুলো সাধারণত দেরিতে খোলে এবং বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ রাতে গভীর রাত পর্যন্ত তা খোলা থাকে। ইফতারের আগমুহূর্তে শহরের রাস্তাগুলোতে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। তাই কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হতে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ইফতারের সময় শহরে ট্যাক্সি পাওয়াও কঠিন হয়ে যায়। শহরজুড়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগুলোও পালন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে সূর্যাস্তের সময় কামান দাগানো হয়, যা রোজা ভাঙার সংকেত দেয়।
রমজান মাসে জনসমক্ষে ভালোবাসার প্রকাশ—যেমন আলিঙ্গন বা চুম্বন অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। গাড়িতে বা খোলা জায়গায় জোরে গান বাজাতে নিরুৎসাহ করা হয়। রমজানে ইফতার, সাহরি ও ইবাদতের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে অনেক সংস্থাই নিজেদের সেবা প্রদানের সময়ে পরিবর্তন আনে। রমজান হলো শান্তি ও আত্মচিন্তার সময়, তাই উচ্চ শব্দের গান, জোরে কথা বলা বা জনসমক্ষে তর্ক-বিতর্ক ভালো চোখে দেখা হয় না। কথাবার্তা সংযত রাখা এবং স্পিকারের বদলে হেডফোন ব্যবহার করা শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.