01/25/2026 গাজাকে আধুনিক বাণিজ্যিক হাব বানানোর 'মাস্টারপ্ল্যান' দিলেন ট্রাম্প-জামাতা কুশনার
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৩৮
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনে নিজের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তিনি জানিয়েছেন, গাজা নিয়ে তাদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট 'মাস্টারপ্ল্যান' আছে এবং এর কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই।
'নিউ গাজা' নামের এই প্রকল্পের আওতায় ভূখণ্ডটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কুশনারের মতে, যদি হামাস নিরস্ত্র না হয় তবে গাজার জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এই পরিকল্পনাটি মূলত ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’ এবং ২০ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কুশনারের এই পরিকল্পনায় গাজার উপকূলরেখা বরাবর একটি বিশাল পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন ও বিলাসবহুল হোটেল থাকবে। এছাড়া গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমে মিসর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন সমুদ্রবন্দর এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া পুরোনো বিমানবন্দরের কাছে একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 'নিউ রাফাহ' ও 'নিউ গাজা' নামে দুটি বিশাল নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ আবাসন, ২০০ স্কুল এবং ৭৫টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। কুশনারের দাবি, মাত্র দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে গাজায় শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
তবে এই ঝকঝকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কুশনার এই প্রকল্পকে 'অসাধারণ বিনিয়োগের সুযোগ' হিসেবে বর্ণনা করে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেও মানবাধিকার কর্মীরা একে ভিন্নভাবে দেখছেন। ফিলিস্তিনি ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের প্রতিষ্ঠাতা রামি আবদু মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের চরম অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা এবং নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, দুবাই বা দোহার আদলে গাজাকে গড়ে তোলার এই স্বপ্ন আসলে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার দমনের একটি কৌশল মাত্র।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.