01/21/2026 ক্ষমতায় এলে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ দেবে জামায়াতে ইসলামী
মুনা নিউজ ডেস্ক
২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:০৫
‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’-এর জন্য নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলটি এই রূপরেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬–এ এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার কথা বলা হয়।
সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয় বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নারীরা এখনো নানা কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য একটি সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এই বাস্তবতাগুলো সৎভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বাইরে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছে ও বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে। তবে তাঁদের অবদান শুধু অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা—আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেওয়া ও সংস্কারে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধীরে ধীরে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যকার অংশীদারত্বের ওপর। সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।
জামায়াত আয়োজিত এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত-পাকিস্তানসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.