01/16/2026 নোবেল পদক দিয়ে উপহার পেলেও ট্রাম্পের মন পেলেন না মাচাদো!
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫২
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এমন একটি উপহার নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা– নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিন্তু এর বিপরীতে কী পেয়েছেন মাচাদো?
সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক মাচাদো গণতন্ত্র জোরদারের ক্যাম্পেইনের জন্য গত বছর এই পুরস্কার পান। এবার তিনি সেই পদকটি রেখে গেছেন হোয়াইট হাউসে, এই আশায় যে প্রতীকী এই উপহার তাকে আরও মূল্যবান কিছু এনে দিতে পারে; হয়তো মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন।
তবে মাচদো যদি ভেবে থাকেন যে এই উপহার ট্রাম্পকে তার প্রতি আরও স্পষ্ট সমর্থন দিতে প্রভাবিত করবে, তাহলে আপাতত তাকে অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিএনএনের প্রতিবেদনে।
জানা গেছে, হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় মাচাদোকে ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের একটি উপহারের ব্যাগ হাতে ছবি তুলতে দেখা যায়। যদিও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দু’জনের একজন হলেন মাচাদো। ট্রাম্প দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। যদিও শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন মাচাদো। ট্রাম্পের হাতে একটি বড় সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক, যার ভেতরে আছে নোবেল পদকটি এবং একটি উৎসর্গবার্তা। যাতে লেখা, ‘ভেনেজুয়েলার মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিগত ও দৃঢ় পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে উপহার।’
পরে ট্রুথ সোশালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমার কাজের জন্য মারিয়া আমাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েছেন। এটি পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন।
যদিও এর পরপরই অসলো-ভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার জানিয়ে দেয়, এই পদক শেয়ার বা হস্তান্তর করা যায় না। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, একটি পদকের মালিক পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর মর্যাদা কখনোই হস্তান্তরযোগ্য নয়।
এদিকে মাচাদো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে একে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি নতুন ও প্রকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালুর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে, যা প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের দেশে ফিরতে উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার ইতোমধ্যেই একজন ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’ আছেন। তিনি হলেন এডমুন্ডো গঞ্জালেজ। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র যাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সাধারণ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবং শপথ গ্রহণের আগে বিজয়ী প্রার্থীকে ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’ বলা হয়।
সিএনএন বলছে, ভেনেজুয়েলার ‘সরকার-নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ওই নির্বাচনে মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছিল, যার ফলে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হন। সে সময় বিরোধী নেতারা, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কারচুপির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে মাদুরোর গ্রেফতারের ঘটনার পর ওয়াশিংটনের আগের সমর্থন সত্ত্বেও মাচাদো বা গঞ্জালেজের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি ট্রাম্প, বরং তিনি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেন–যা মাদুরোবিরোধী অনেককেই বিস্মিত করেছে।
গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মাচাদোর আশাবাদী বক্তব্য সত্ত্বেও, একটি ছবির সুযোগ এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা সরকারি উপহারের ব্যাগ ছাড়া মাচাদো আদৌ কী অর্জন করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্পের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে বৃহস্পতিবার বৈঠক শুরুর সময় জানান হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন এবং তিনি আশা করেছিলেন এটি মাচাদোর সঙ্গে একটি ভালো ও ইতিবাচক আলোচনা হবে। তিনি ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য সত্যিই একজন সাহসী কণ্ঠস্বর।’
তবে একইসঙ্গে লেভিট জানান, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য মাচাদোর প্রয়োজনীয় সমর্থন নেই–আগের এমন অবস্থানেই অটল রয়েছেন ট্রাম্প।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.