01/14/2026 মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করতে কাতারে নতুন কেন্দ্র ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:৩০
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। যদিও ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এদিকে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেসে একটি নতুন কেন্দ্র খোলার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেটি সমন্বয় করবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সতেরোটি দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এই নতুন সামরিক স্থাপনায়। নতুন কেন্দ্রটির নাম হলো ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল (এমইএডি-সিডিওসি)’ এবং এটি কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টার (সিএওসি)-এর আওতায় পরিচালিত হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর সেনা সদস্যরাও থাকবে। সেন্টকম-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সেলটি অঞ্চলের সেনারা কিভাবে প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি করবে তা উন্নত করবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইউএস এয়ার ফোর্স সেন্ট্রাল'র (এএফসিইএনটি) কর্মীরা অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করবে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে, সেই ব্যবস্থাগুলো প্রকৃত পক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তাকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত’ বলে বর্ণনা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জানিয়েছে, এই দমন-পীড়নের ফলে বিক্ষোভ চলাকালে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক্স-এ এক পোস্ট জানায়, ওয়াশিংটনের এই ‘কৌশল’ আবারও ব্যর্থ হবে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা ও নীতির ভিত্তি হলো শাসন পরিবর্তন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলাকে কার্যপদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা হয়।’
ইরানি কর্তপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে রাতভর ধারাবাহিক গণবিক্ষোভের পর তারা দেশের ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছে যে, ইরান বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে এবং এখন পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে দমন-পীড়নের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’। সিবিএস নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তবে তেহরানের প্রসিকিউটররা বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জন্য গ্রেপ্তার হওয়া কিছু সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে মামলা করবে কর্তৃপক্ষ।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.