01/02/2026 ইরানে আবারও হামলা করা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা নেতানিয়াহুর
মুনা নিউজ ডেস্ক
১ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:২৭
ইরানের ওপর সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই আলোচনা হয়।
এই বৈঠক পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ইসরায়েলের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার পুনর্গঠনের চেষ্টার বিষয়ও তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন যে, বৈঠকে ২০২৬ সালে আবারও ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে সদ্যসমাপ্ত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা। জুনে চালানো সেই হামলাকে 'বিশাল সফলতা' হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, 'যদি ইরান আবার তার পারমাণবিক কর্মসূচি গড়তে চায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও তা ধ্বংস করবে।' কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার দিকে 'বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ' নেয় বলে প্রতীয়মান হয়, তবে ট্রাম্প নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেই যেতে পারেন। তবে 'পুনর্গঠন বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে', তা নিয়ে উভয় পক্ষের একমত হওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন করছে বলে ইসরায়েল নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র মজুতের অভিযোগও তুলেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের 'কঠোর জবাব' দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পকে 'সম্মানজনক পরিবেশে' আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের সময়সূচি বা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে— সে বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউস অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
এর আগে গত জুনে ১২ দিনের সংঘাতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি বড় পারমাণবিক স্থাপনা— ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালায়, যাতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হন এবং বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এগোনোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন। হামাস নিরস্ত্র হতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। গাজা বোর্ড অব পিস আগামী ২৩ জানুয়ারি দাভোসে বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ হিসাব করেছে যে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই ভূখণ্ডটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.